ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের যে ঘটনাটি ঘটেছে তা চিন্তার বিষয়। এ ঘটনায় চারজন নিহত এবং শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। হতাহত হয়েছেন পুলিশ সদস্য , সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক তরুণের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর’ পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। ওই পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেয়া হলে তা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তৌহিদি জনতার ব্যানারে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পর একদল তরুনের অপপ্রচারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় আলেমগন পুলিশের আস্রয়স্থলে হামলা থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে এবং একদল তরুন তাদের হটিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়।
সচেতন মহলের ধারনা এ ঘটনায় উদ্দেশ্যমূলক উত্তেজনা ছড়ানোর পিছনে কারো হাত থাকতে পারে। এর আগে ২০০১ সালে নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে কুকুরের মাথায় টুপি দেয়াকে কেন্দ্র করেও এখানে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করে ও বিশেষ ফায়দা লুটা হয়।তার আগে বাবরি মসজিদের ঘটনায় ভোলার হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সীমাহীন নির্যাতন চালায় একই গোষ্ঠী।
২০০১ সালে নির্বাচনের পর ভোলা জেলার প্রতিটি থানায় নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হয় আওয়ামীলীগ সমর্থকদের উপর। হামলা,মামলা, ধর্ষণ,অগ্নি সংযোগ কোন অপরাধ বাদ যায়নি এ জেলায়। আওয়ামীলীগ ক্ষমাতায় আসার পর নির্যাতিতদের দাবির প্রেক্ষিতে বিচারের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে ঘটেছে তার উলটো। সন্ত্রাসীদের বিচারের পরিবর্তে পুরস্কৃত করা হয়েছে সাংসদদের আশেপাশে জায়গা দিয়ে। বিচারের পরিবর্তে পুরস্কৃত হলে সন্ত্রাসীদের শক্তি ও সাহস বাড়াটাই স্বাভাবিক নয় কি? ভোলায় সংঘটিত দাঙ্গাকারীদের আইনের আওতায় আনা হোক, ইহা সকলের দাবি না হয় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হবে আরো অনেক প্রান, বিঘ্নিত হবে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা।












