ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর প্রায় তিন মাস হয়ে গেছে।কেমন আছে জম্মু-কাশ্মীর? উপত্যকার হালহকিকত জানতে সেখানে সরেজমিনে যাচ্ছে ইউরোপের আইনসভার এক প্রতিনিধিদল। সেই দলে থাকবেন ২৮ জন সদস্য। আজ মঙ্গলবার কাশ্মীরে পা রাখবেন ওই প্রতিনিধিরা।
উপত্যকা থেকে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর এই প্রথম কোনও বিদেশি প্রতিনিধিদল ভূ-স্বর্গে যাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির তরফে টুইট করেছেন তাঁরা মেয়ে ইলতিজা। মায়ের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে তিনি লিখেছেন,আশা করি ওই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, চিকিৎসক ও সমাজের অন্যান্য শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলে আসল রহস্যটা উদঘাটন হবে।’
তার আগে সোমবার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। সেই বৈঠকে তাঁদের কাছে জম্মু-কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়।
বৈঠকের পর সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ইইউ প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। তাঁর আশা, জম্মু-কাশ্মীরসহ এই প্রতিনিধিদের ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সফর ফলপ্রসূ হবে। জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈপরীত্য সম্পর্কে তাঁদের বোঝাপড়া সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে তাঁরা বুঝতে পারবেন, এই অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন ও প্রশাসনে সরকার কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইইউর সাংসদদের মোদি এ কথাও জানান, সন্ত্রাসবাদীদের যারা মদদ দেয়, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সন্ত্রাসবাদ রুখতে ভারত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল।
এদিকে, কাশ্মীরে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের যাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ টুইটে লিখেছেন, ভারতের বাসিন্দা হয়ে বিরোধীদের উপত্যকায় যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ বিদেশিদের যেতে দেওয়া হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের লজ্জা।
গত তিন মাসে এই প্রথম বিদেশিদের জম্মু-কাশ্মীরে যাওয়ার অনুমতি দিল ভারত সরকার। এত দিন কোনো বিদেশি সাংবাদিককে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। কোনো কূটনীতিককেও না।












