বায়ুদূষণ রোধে আদালতের ৯ দফা নির্দেশনা

0
223

রাজধানীর বাতাস দূষিত হওয়ার কারণ কি এবং তা রোধে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তলব করেছেন হাইকোর্ট।একইসঙ্গে যেসব পরিবহন নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি কালো ধোয়া ছড়াচ্ছে সেসব যানবাহন জব্দ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে মোট ৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে দফা সুপারিশ সম্বলিত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপনের পর এ আদেশ দেন আদালত।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট আবেদনের ধারাবাহিকতায় গতকাল আদেশ দেন আদালত। আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গতবছর ২১ জানুয়ারি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে এইচআরপিবি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ৯ দফা নির্দেশনা দেন আদালত।

হাইকোর্টের দেওয়া ৯ দফা নির্দেশনায় সড়ক পরিবহন আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবহনের ‘ইকোনোমিক লাইফ’ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। যেসব পরিবহনের ‘ইকোনোমিক লাইফ’র মেয়াদ শেষ হয়েছে সেসব পরিবহন চলাচলে নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া চলমান টায়ার পোড়ানো ও ব্যাটারি রিসাইকেলিং বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়ন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে একমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকার পাশের চার জেলায় (গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ) যেসব অবৈধ ইটভাটা এখনও বন্ধ করা হয়নি তা বন্ধ করে দুইমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকায় বালি, ময়লা, বর্জ্য বহনের সময় বহনকারী ট্রাকসহ সংশ্লিষ্ট যান ঢেকে চলাচল করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দোকান বা মার্কেটের ময়লা যাতে সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে ফেলা হয় তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ এলাকায় বালি, সিমেন্ট, মাটিসহ নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন ও দরপত্রের শর্তানুযায়ী উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের যেসব ধুলাবালি প্রবণ এলাকায় এখনও পানি ছিটানো হয়নি সেসব এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটাতে বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY