আজ শহীদ আসাদ দিবস

0
183

শহীদ আসাদ দিবস আজ। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিপরীতে বাঙালি জাতির স্বাধীনতার দাবিতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন ছাত্রনেতা আসাদ। ছাত্রসমাজের ১১-দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তিনি। আসাদের মৃত্যুতে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ফলশ্রুতিতে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে সরে দাঁড়াতে হয়।

শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বাণী দিয়েছেন।

আসাদ দিবস উপলক্ষে শহীদ আসাদ পরিষদ আজ সকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় জমায়েত; ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গেটসংলগ্ন শহীদ আসাদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান ও  আলোচনা সভা করবে।

শহীদ আসাদের পুরো নাম মোহাম্মদ আমানুল্লাহ আসাদুজ্জামান। ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার ধানুয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আসাদ ১৯৬০ সালে শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জগন্নাথ কলেজে (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন। সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৬৭ সালে তিনি এম.এ ডিগ্রী অর্জন করেন।

১৯ জানুয়ারি, ১৯৬৯। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন দুঃসাহসী ছাত্র আইয়ুব শাসনের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে প্রতিবাদ সভা বের করে পুলিশ ও ইপিআরের বাধায় প্রত্যেকেই বন্দি হন। পরদিন ২০ জানুয়ারি ছাত্রজনতা আবার ১৪৪ ধারা ভেঙে পাকিস্তানি পুলিশ-ইপিআরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে। তবে সেদিন ছাত্রজনতার প্রতিবাদের মুখে পাক প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হয়।

সব বাধা অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিরাট শোভাযাত্রাটি কলা ভবন থেকে বেরিয়ে শহীদ মিনার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে যাচ্ছিল। সেই শোভাযাত্রার অন্যতম নায়ক ছিলেন আসাদুজ্জামান। শোভাযাত্রা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে এলে তাকে গুলি করে পাক পুলিশ। শহীদ হন টগবগে যুবক আসাদ। আসাদের রক্তাক্ত শার্ট নিয়েই তাৎক্ষণিক মিছিল বের করে ছাত্ররা। প্রবলভাবে বিস্ফোরিত হয় ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান।

LEAVE A REPLY