৩১ জানুয়ারি মিরপুর মুক্ত দিবস

0
26

পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করলেও মিরপুর মুক্ত হয় ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি। তাই ৩১ জানুয়ারি ‘মিরপুর মুক্ত দিবস’ পালন করে মিরপুরবাসী।

১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। তবে মিরপুরে বসবাসরত বিহারি, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কিছু সৈন্য, সঙ্গে দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সদস্যরা তখনও মিরপুরকে দখল করে রাখে ও বাঙালি হত্যাকাণ্ড চালায়। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুর মুক্তকরণ যুদ্ধ সংগঠিত হয় ও পরদিন ৩১ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর ঢাকার মিরপুর এলাকা মুক্ত হয়।

১৯৭২ সালের ২৭ জানুয়ারি মেজর হায়দারসহ মুক্তিযোদ্ধারা মিরপুরে প্রবেশ করে। ৩০ তারিখ ছিল অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ, তাই মিরপুরকে শত্রুমুক্ত করতে ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী মিরপুর ঘিরে রাখে এবং “মিরপুরকে মুক্ত করার প্রস্তুতি” শুরু করে।

জহির রায়হান
জহির রায়হান

 

এই দিন, বাঙালি চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান তার নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লাহ কাইসারকে খুঁজতে মিরপুর এলাকা যান। শহীদুল্লাহ কায়সারকে আল-বদরের সদস্যরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অপহরণ করেছিল। জহির রায়হান ভাইয়ের সন্ধানে মীরপুরে যান এবং সেখান থেকে আর ফিরে আসেন নি।

৩১ তারিখ ছিল অবাঙালিদের অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। তাই সৈন্যরা অস্ত্রের জন্য মিরপুর ও মোহাম্মদপুর থানায় অনুসন্ধান শুরু করে এবং এ অঞ্চলে কারফিউ আরোপ করা হয়। এক পর্যায়ে মোহাম্মদপুর ও মিরপুরে অবস্থানরত বিহারি ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে গুলিবর্ষণ ঘটে। এতে জিয়াউল হক লোদী, লে. সেলিমসহ ৪১ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য, শতাধিক পুলিশ এবং মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ৩১ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর ঢাকার মিরপুর এলাকা মুক্ত হয়।

২০০১ সালে জানুয়ারির ৩১ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিরপুরে মুক্ত দিবস পালন করা হয়। এই উপলক্ষে প্রতিবছর গান, নাটক, বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বক্তৃতা, গান, আলোচনা, আলোকচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।

 

তথ্য সুত্র: উইকিপিডিয়া

LEAVE A REPLY