ভারতের খ্যাতিমান সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানের কন্যা খাতিজা রহমান এবং বাংলাদেশের বিতর্কিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের মধ্যে গত কদিন ধরে এক উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
খাতিজা রহমানের বোরকা পরা নিয়ে গত সপ্তাহে এই সর্বশেষ দফা বাকযুদ্ধের সূচনা করেছেন অবশ্য তসলিমা নাসরিন। তবে এবার এই আক্রমণের মুখে খাতিজা আর নিশ্চুপ থাকেননি, নিজেই শক্ত ভাষায় তসলিমা নাসরিনের আক্রমণের জবাব দিয়েছেন।

খাতিজার বোরকা এবং নেকাবে আবৃত মুখের ছবি টুইট করে তসলিমা লিখেছিলেন, “এ আর রহমানের সঙ্গীত আমি খুবই পছন্দ করি। কিন্তু যখনই আমি তার কন্যাকে দেখি, আমার দমবন্ধ হয়ে আসে। একটি সংস্কৃতিবান পরিবারের শিক্ষিত নারীও যে এরকম মগজ ধোলাইর শিকার হতে পারে, সেটি খুবই পীড়াদায়ক।”
তসলিমা নাসরিনের এই টুইট সাংঘাতিকভাবে ক্ষুব্ধ করে খাতিজা রহমানকে। তিনি এর উত্তরে ইনস্টাগ্রামে একের পর পোস্টে শক্ত ভাষায় তসলিমার আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছেন।
একটি পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, “তসলিমার যদি এতই দমবন্ধ লাগে তার উচিৎ বাইরে গিয়ে তাজা বাতাসে শ্বাস নেয়া।”
এখানেই শেষ নয়, একের পর এক টুইট করে তসলিমা নাসরিনকে জবাবের পর জবাব দিয়ে যাচ্ছেন এ আর রহমান কন্যা।
ইনস্টাগ্রামে খাদিজা রহমান আগুনের শিখার একটি ছবিটি পোস্ট করেন, তার নীচে লেখেন কারসন কোলহফ বলে একজনের উদ্ধৃতি: ‘আমার নীরবতাকে অজ্ঞতা বলে ভুল করো না।’
খাদিজা আরেকটি পোস্ট দেন তসলিমা নাসরিনের টুইটের স্ক্রীনশটসহ। এবার তিনি লিখেন, ‘এক বছর পার হয়নি, এর মধ্যে আবার এই বিষয় নিয়ে কথা চলছে। দেশে এখন কত কী ঘটছে, অথচ লোকের সব চিন্তা যেন এক টুকরো কাপড় নিয়ে, যেটি একজন নারী পরতে চায়। আমি আসলেই চমকে যাচ্ছি।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘যতবার এই বিষয়টি নিয়ে কথা হয়, আমার মনের ভেতর আগুন জ্বলতে থাকে। আমার অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে। গত এক বছরে আমি অন্য এক আমাকে আবিষ্কার করেছি, যাকে আমি আগে কখনো দেখিনি। আমি দুর্বল হবো না কিংবা যে জীবন আমি বেছে নিয়েছি সেটি নিয়ে আমার কোন অনুতাপ নেই।’
আরেক পোস্টে খাদিজা সরাসরি তসলিমা নাসরিনকে সম্বোধন করে লিখেছেন, ‘প্রিয় তসলিমা নাসরিন, আমার পোশাক দেখে যে তোমার দমবন্ধ হয়ে আসে, সেজন্যে আমি দুঃখিত। আমার কিন্তু দমবন্ধ হয় না বরং আমি যা বিশ্বাস করি তার জন্য আমি গর্বিত। আমার পরামর্শ হচ্ছে, সত্যিকারের ‘নারীবাদ’ কি জিনিসে তা দয়া করে গুগলে সার্চ করে দেখ। নারীবাদ মানে অন্য নারীকে আক্রমণ করা নয়। তাদের বাবাকে বিতর্কে টেনে আনা নয়।’
তসলিমা নাসরিন যে অনুমতি ছাড়া তার ছবি পোস্ট করেছেন সেজন্যও খোঁচা দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমার তো মনে পড়ছে না আমার ছবি তোমার কাছে পাঠিয়েছিলাম বলে।’
এর আগেও বোরকা পরে এ আর রহমান কন্যা ছবি দিয়েছিলেন। সে সময় ভারতে এটা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তখন তার সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন বাবা এ আর রহমান।
কন্যার বোরকা পরাকে সমর্থন করে তিনি তখন একটি ছবি টুইট করে লিখেছিলেন, ‘পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা সবার আছে।’
বোরকা পরে খাদিজা রহমানের টুইট করা সেই ছবিটিতে ছিলেন এ আর রহমানের স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং ভারতের বিশিষ্ট শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানি। ছবিতে সবার মুখ দেখা গেলেও খাদিজার মুখ ছিল নেকাবে ঢাকা। খবর: বিবিসি












