আজ ভয়াল ২১ শে আগস্ট, নৃশংস হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী বাংলার মাটি

0
157

আজ ২১শে আগস্ট ১৬ বছর আগের এই দিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামীলীগের সমাবেশে মুহুর্মুহু গ্রেনেডের বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। আহত মানুষের আর্তনাদ, নিহত আর আহত মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় আওয়ামীলিগ অফিসের সামনের রাস্তাটি। কাতর মানুষের ছোটাছুটিতে তৈরি হয় এক বিভীষিকা। জাতি স্তম্ভিত হয়ে যায় সেদিন।

২০০৪ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সেই সমাবেশে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ও অন্যান্য নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে সমাবেশে অতর্কিতে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। মারা যান আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ চার শতাধিক নেতা-কর্মী। আহত হন সাংবাদিক সহ আরো অনেকে।

এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আওয়ামী লীগ বলেছে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে সংগঠনের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের প্রথম সারির নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই ঘৃণ্য হামলা চালায় ঘাতক চক্র। শুধু গ্রেনেড হামলাই নয়, সেদিন শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করেও চালানো হয় ছয় রাউন্ড গুলি। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি আহত হন, তাঁর শ্রবণশক্তি চিরদিনের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সমুহ ও সচেতন নাগরিকগন প্রতি বছর দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে পালন করে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। ২১ আগস্টের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় বাণীতে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার হামলাকারীদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ সব আলামত ধ্বংস করে। কিন্তু সত্য কখনো চাপা থাকেনি। পরবর্তীকালে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসে বিএনপি-জামায়াত জোটের অনেক কুশীলব এ হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় হয়। এর মধ্য দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। আইনি বিধিবিধান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব এই রায় কার্যকর করা হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি।

‘৭৫ এর ১৫ই আগস্ট জাতির জনক কে হত্যার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিঃশেষ করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় ঘটে যাওয়া এই হত্যা কান্ডের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করে সর্বস্তরের মানুষ মনে করে নেপথ্যের নায়কদের ফাসি কার্যকর না হলে দেশে এধরনের নাশকতা বন্ধ হবেনা, দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ব্যাহত হবে, জাতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাবে।

LEAVE A REPLY