সাবেক ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী মারা গেছেন

0
4

জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার, ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত, ছয় বারের সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, , মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ৭১ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় সোমবার (১৬নভেম্বর) সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি কিডনি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়া রোগে ভুগছিলেন।

সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়,  আজ বাদ মাগরিব তাঁর নামাজে জানাযা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ জাতীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।

আগামীকাল ১৭ নভেম্বর ২০২০ সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারে সকাল ১০ টায় তাঁর মরদেহ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়ায় নেওয়া হবে।  সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নড়িয়া শহীদ মিনারে রাখা হবে। বাদ জোহর নড়িয়া বি এল উচ্চ বিদ্যালয়ে জানাযা শেষে নিজ বাড়িতে শরীয়তপু্রের নড়িয়ায় স্বাধীনতা ভবনে চির নিদ্রায় শায়িত হবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী।

শওকত আলী ১৯৩৭ সালের ২৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন  । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং স্বাধীন বাংলা আন্দোলনে যুক্ত হন। চাকরিরত অবস্থায় ১৯৬৮ সালের ১০ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হন।

১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়েছিল, তাতে শওকত আলীকেও আসামি করা হয়। আগরতলা মামলার ২৬ নম্বর অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং মাদারীপুর-শরীয়তপুরে যুদ্ধ করেন। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীতে পুনর্বহাল হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয় এবং তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতীর সাথে যুক্ত হয়েছিলেন।

 

LEAVE A REPLY