হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে ৬ করণীয়

0
11

 

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে ৬ করণীয়

প্রতিবছর বিশ্বে যে পরিমাণ মানুষ মারা যায়, তার ৩১ শতাংশের কারণ হৃদ্‌রোগ। হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে বেশি রয়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষ। কারণ, এসব দেশের মানুষ অল্প বয়সেই ধূমপান শুরু করে, চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খায়। বাংলাদেশের মানুষের শারীরিক উচ্চতা তুলনামূলক কম এবং করোনারি ধমনি অপেক্ষাকৃত সরু। ফলে চর্বি জমে ধমনি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি।

হৃদ্‌রোগের ছয়টি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকি

১. ধূমপান ও তামাক বর্জন: ধূমপান হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের কারণ। সিগারেটের ধোঁয়া হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালিকে সংকীর্ণ করে দেয়। শুধু ধূমপান ছেড়ে দিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যায়।

২. উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ কখনো বাদ দেওয়া যাবে না। উচ্চ রক্তচাপের কোনো সতর্কসংকেত নেই। তাই প্রত্যেকেরই রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। সাধারণত ৩০ বছর বয়স থেকে রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা শুরু করা উচিত।

৩. দৈনিক ৩০ মিনিট ব্যায়াম: নিয়মিত ব্যায়াম হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়। ব্যায়ামের অভ্যাস ওজনও নিয়ন্ত্রণ করে, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমায়। ব্যায়াম মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন ৩০ মিনিটের বেশি সময় মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করুন।

৪. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: কোলেস্টেরল সব সময়ই রক্তনালির ক্ষতি করার চেষ্টা করে। কিছু কোলেস্টেরল খাবার থেকে আসে। চর্বি ও তেলযুক্ত খাবার কম খাবেন। ৪০ বছর বয়স থেকে প্রতিবছর কমপক্ষে একবার কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো উচিত।

৫. ওজন স্বাভাবিক রাখা: পুরুষদের কোমরের মাপ ৪০ ইঞ্চির (১০১.৬ সেমি) বেশি ও নারীদের ৩৫ ইঞ্চির (৮৮.৯ সেমি) বেশি হলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ওজন মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমাতে পারলেই ট্রাইগ্লিসারাইড ও রক্তে শর্করা কমে আসে। ওজন কমলে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলও কমে।

৬. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: ৭০ শতাংশ টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগী হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে থাকে। ওজন স্বাভাবিক এবং ডায়াবেটিসের অন্যান্য ঝুঁকি না থাকলে ৪০ বছর বয়সে স্ক্রিনিং শুরু করুন।

জীবনাচরণে মাত্র পাঁচটি পরিবর্তন হৃদ্‌রোগ থেকে রক্ষা করবে

১. বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া

২. স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমিয়ে ফেলা

৩. লবণকে বিদায় জানানো

৪. ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

৫. ওজন বেশি হলে খাবারে ক্যালরির পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া

৬. পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো

LEAVE A REPLY