আজ ৩রা নভেম্বর- জেল হত্যা দিবস

0
237

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কে স্ব পরিবারে হত্যার পর খুনিরা নিরাপদ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার পথ খুজতে থাকে, খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধুর সহচরদের নিজের বলয়ে আনার চেষ্টা চালায়।কারাবন্দি থাকা এ, এইচ,এম কামরুজ্জামান, তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী কে সহযোগি করতে না পেরে কারা অভ্যন্তরে নির্মম কা-পুরুষোচিত হত্যায় মেতে উঠে।৩রা নভেম্বরের এই দিনটি জেল হত্যা দিবস হিসেবে জাতি শ্রদ্ধা ভরে স্বরন করে জাতীয় চার নেতাকে।

৪৪ বছর আগে সংঘটিত এই হত্যাকান্ডের বিচা্রের রায় আজও কার্যকর হয়নি, ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে​ গেছে খুনিরা। জেলহত্যা মামলা নামে পরিচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিচারের তিনটি ধাপ পার হলেও দণ্ডিত ১১ আসামির সবাই পলাতক আছেন, যাঁদের তিনজন মৃত্যুদণ্ড ও আটজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত, ছয়জন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায়ও দণ্ডপ্রাপ্ত।

আসামিদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন কোথায় আছেন, সে ব্যাপারে সরকারের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। কেবল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুজনের ব্যাপারে তথ্য আছে। তাঁদের মধ্যে কর্নেল (অব.) এম বি নূর চৌধুরী কানাডা এবং লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে অনেক দিন ধরে চেষ্টা চলছে। প্রতিবছর ১৫ আগস্ট এলে এ নিয়ে সরকারের মন্ত্রী-নেতারা অনেক কথা বলেন। পরে এ নিয়ে আর তেমন কোনো আলোচনা থাকে না।

জেলখানায় নৃশংস ওই হত্যাযজ্ঞের পরদিন ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সেনাবাহিনীর রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁর নেতৃত্বে চার-পাঁচজন সেনাসদস্য কারাগারে ঢুকে চার নেতাকে হত্যা করেন। গুলি করার পরে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার পরদিন মামলা করা হলেও ২১ বছর পর থেমে থেমে চলে মামলার কার্যক্রম। দণ্ডিত ১১ আসামির সবাই পলাতক আছে। দুজন ছাড়া বাকি আসামিরা কোথায় আছে, সে ব্যাপারে সরকারের কাছে কোন তথ্যও নেই।

ঘটনার ২৯ বছর পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিন আসামি রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার মো. আবুল হাশেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

যাবজ্জীবন দণ্ডিত ১২ আসামি হলেন লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর (অব.) বজলুল হুদা ও মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুর রশিদ, লে. কর্নেল (অব.) শরিফুল হক ডালিম, কর্নেল (অব.) এম বি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) আহম্মদ শরিফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ, ক্যাপ্টেন (অব.) কিশমত হাশেম, ক্যাপ্টেন (অব.) নাজমুল হোসেন আনসার।

আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য রায়সহ মামলার নথিপত্র ২০০৮ সালে হাইকোর্টে আসে। এ ছাড়া কারাগারে থাকা যাবজ্জীবন দণ্ডিত চার আসামি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) আপিল করেন। ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির মধ্যে রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। মারফত আলী শাহ ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধা মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পান। আপিলকারী চার দণ্ডিত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে খালাস পান। যাবজ্জীবন দণ্ডিত অপর আট আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে। সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (‍ল্যান্সার) জেল হত্যায় অব্যাহতি পেলেও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি তাঁদের ফাঁসি কার্যকর হয়।

রাষ্ট্র পক্ষের আপিলের ভিত্তিতে আপিল বিভাগ দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার মো. আবুল হাশেম মৃধাকে হাইকোর্টের খালাসের রায় বাতিল করে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত ১১ আসামির কারো অবস্থান জানা যায়নি।

LEAVE A REPLY