বগুড়ায় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে যোগ দিতে আসা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ (এএসপি) পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের সার্কিট হাউজ সড়কে শহীদ খোকন পার্কের ভেতরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়ায় শোভাযাত্রার আগে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে দাঁড়ানো নেতা-কর্মীদের বারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ থেকে ফেরার পথে পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদলের ২০ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়ায় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শহরের নওয়াববাড়ি সড়কে দুপুর ১২টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে যোগ দিতে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন মহল্লা থেকে মিছিলসহ সার্কিট হাউস সড়কে শহীদ খোকন পার্কের ভেতরে সমবেত হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। সেখান থেকেই একজোট হয়ে তাদের দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তারই অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ খোকন পার্কে যান।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে খোকন পার্কের ভেতরে ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী সমবেত হন। তাদের মধ্যে অনেকে ওই পার্কের ভেতরে অবস্থিত শহীদ মিনারে জুতা স্যান্ডেল পায়ে উঠে পড়েন। পরে পুলিশ ভেতরে গিয়ে তাদেরকে শহীদ মিনার থেকে নেমে যেতে বলেন। এক পর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের একাংশ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। অন্য অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা জুতা-স্যান্ডেল পায়ে শহীদ মিনারের ওপর উঠে তাণ্ডব চালাচ্ছিল। দুপুর ১২টার দিকে তার নেতৃত্বে পুলিশ সেখানে গিয়ে ছাত্রদলের কর্মীদের শহীদ মিনার থেকে নেমে যেতে বলেন।
তিনি বলেন, ‘এ সময় কেউ কেউ নেমে গেলেও অন্যরা পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালায়। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা হয়েছে। হামলায় আমিসহ আমাদের বাহিনীর ৫ সদস্য আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কনস্টেবল পারভেজের মাথায় আঘাত করা হয়েছে।’
এদিকে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান জানান, তাদের সমাবেশ মঞ্চ ছিল নবাববাড়ি সড়কের দলীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে তারা অবস্থান করছিল। নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য সমবেত হয়েছিল মাত্র। সেখানে পুলিশের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে, হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। অথচ মামলা দায়ের করে অনেক নেতাকর্মীকে আটক করতে শুরু করা হয়েছে।












