রহস্যময় করোনা ভাইরাস ও আমাদের করণীয়

0
185

চীনের উহান শহরের একটি সামুদ্রিক মাছের বাজারে সর্বপ্রথম এই ভাইরাস টি পাওয়া যায় এবং ধারনা করা হচ্ছে সাপ/বন্য প্রাণী থেকে এই ভাইরাস টি সর্বপ্রথম মানুষের শরীরের ছড়ায়

এখন পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০০০, মৃতের সংখ্যা ৬০ এর কাছাকাছি, এর মধ্যে একজন ডাক্তার চিকিৎসা দিতে গিয়ে মৃত্যু বরন করেছেন। মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগের বয়স ই ৬০ এর বেশি এবং তাদের সবার দেহে আগে থেকেই বিভিন্ন রোগ ছিল যেমনঃ ক্যান্সার , উচ্চ রক্তচাপ, অর্থাৎ যাদেররোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনা দূর্বল ছিল তাদের মৃত্যুর হার ই বেশী ।

চিনে সবাই এই ভাইরাস নিয়ে বেশ আতংকে আছে। চীন সরকার উহানে ইতিমধ্যে ১০০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মান কাজ শুরু করেছে যেটি কিনা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিক নাগাদ কাজ শেষ হবে। যেহেতু এটি একটি সংক্রামক রোগ সব রোগীকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আস্তে পারলে নতুন করে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।

চীন সরকার ইতিমধ্যে এটিকে জাতীয় দূর্যোগ হিসেবে ঘোষণা নিয়ে ১ বিলিয়ন আর এম বি ফান্ড ঘোষণা করেছে এবং চীনে আক্রান্ত সমস্ত ব্যক্তির চিকিৎসার খরচ সরকার বহন করবে।

এই পরিস্থিতি তে নিজে সতর্ক থাকা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা, বাইরে না যাওয়া, অসুস্থ কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসা, ঘর থেকে বাইরে গেলেই মাস্ক পরা, বাইরে থকে ঘরে আসলে ভালোকরে জীবাণুনাশক দিয়ে হাত ধোয়া, গরম পানি পান করা , পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো মেনে চললে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেয়া এক প্রেস নোটে চারটি সতর্কতা কথা বলা হয়েছে। নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশির লক্ষণ থাকার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, ভ্রমণের সময় বিশেষ করে চীন থেকে বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ থেকে চীনে গেলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এক্ষেত্রে চারটি ব্যবস্থার পরামর্শ দেয়া হয়েছে-

১. আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে দুই হাত দূরে থাকতে হবে।

২. বার বার প্রয়োজন মতো সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা ভাইরাস ছড়িয়েছে এমন এলাকা ভ্রমণ করলে এই সতর্কতা নিতে হবে।

৩. জীবিত ও মৃত গবাদি পশু/ বন্য প্রাণী থেকে দূরে থাকতে হবে।

৪. ভ্রমণকারী আক্রান্ত হলে হাঁচি/কাশির সময় দূরত্ব বজায় রাখা, মুখ ঢেকে হাঁচি/কাশি দেয়া ও যেখানে সেখানে থুথু না ফেলা।

প্রেস নোটে জানানো হয়, এই ভাইরাস যেন বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে তার জন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশে প্রবেশের সব পথে করোনা ভাইরাস স্ক্রিনিং কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কেউ জ্বর নিয়ে দেশে ঢুকছে কিনা তা সনাক্ত করতে শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের সাতটি প্রবেশ পথে ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে ভ্রমণকারীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এ ধরনের রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসার জন্য তৈরি রাখা হয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ড ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড।

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা গেছে

১৯৬০ সালে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। বিভিন্ন ধরনের করোনা ভাইরাসের মধ্যে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় সাতটি ভাইরাস। এ ভাইরাস বিভিন্ন প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়; কিন্তু এখন পর্যন্ত সংক্রমণের নির্দিষ্ট উৎস বের করা সম্ভব হয়নি। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

LEAVE A REPLY