বর্ষীয়ান নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

0
157

বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ৭২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন তিনি। পরদিন তার পৈতৃক ভিটা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা সদরে (আনোয়ারপুর) বাসভবনের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার মরদেহ দাহ করা হয়।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৪৫ সালের ৫ মে সুনামগঞ্জের আনোয়ারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য সুরঞ্জিতের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থি রাজনীতির মধ্য দিয়ে। পরে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগ দেন। ১৯৬৭ সালে ন্যাপ পিকিং ও মস্কো ধারায় বিভক্ত হলে অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদের নেতৃত্বাধীন অংশে যোগ দেন তিনি।

১৯৭০-এর নির্বাচনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ন্যাপ থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সুরঞ্জিত প্রথমে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পরে সভাপতিম লীর সদস্য হন। ১৯৯৬-এর সরকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন।

২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর নবগঠিত রেলপথমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত সহকারীর দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় রেখে দেন। পরে তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সুরঞ্জিতকে নির্দোষ ঘোষণা করে।

মৃত্যুর আগে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সুরঞ্জিতের স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তা বর্তমানে তার আসন সুনামগঞ্জ-২-এর নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও প্রয়াত এই নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে রয়েছে- তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, প্রার্থনা, স্মরণসভা প্রভৃতি।

LEAVE A REPLY