বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

0
3

আজ ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, বাঙালি জাতির জীবনে চিরস্মরণীয় অনন্য ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭২-এর ১০ই জানুয়ারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা লাভ করে স্বাধীনতা।বঙ্গবন্ধুর সুমহান নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হলেও তার অনুপস্থিতি যেন এক বিশাল শুন্যতা তৈরি করে রেখেছিল বাঙ্গালীর অন্তরে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রথমে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের প্রধান কারাগার লায়ালপুর জেলে রাখা হয়েছিল। আগস্টের মাঝামাঝি সামরিক আদালতে তার বিচার শুরু হয়।প্রহসনের বিচারের রায় ছিল পূর্বনির্ধারিত। বঙ্গবন্ধুকে ফাসিতে ঝোলানোর চিন্তা করতে করতে এরই মধ্যে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে।ফলে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তারা।

৮ই জানুয়ারী তাঁকে মুক্তি দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা বজায় রেখে পাকিস্তান সরকার তাঁকে লন্ডন পৌঁছে দেয়। দ্রুতগতিতে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয় তারা বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেবে। বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করেন ব্রিটিশ সরকার। ৯ই জানুয়ারি লন্ডনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু একটি বিবৃতি প্রদান করেন। ‘জয় বাংলা’ রণধ্বনি উচ্চারণের মধ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলার মুক্তিসংগ্রামে স্বাধীনতার অপরিসীম ও অনাবিল আনন্দ অনুভব করছি। এরপর ভারতে ফলপ্রসু কুটনীতিক ভ্রমনের মধ্য দিয়ে ১০ জানুয়ারী দুপুর ১-৫১ মিনিটে ঢাকা বিমান বন্দরে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানটি অবতরণ করে। বিমানে সিঁড়ি স্থাপনের সাথে সাথে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুকে সম্বর্ধনা জানান। বাংলাদেশ সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী রাষ্ট্রপ্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। জনসমুদ্রে ঠাসা ছিল বিমান বন্দর। বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে এলে লাখো জনতা বঙ্গবন্ধুকে বরন করেন হ্রদয় নিংড়ানো ভালোবাসায়।

 

LEAVE A REPLY