আবরার হত্যা মামলায় ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন- নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এই রায়: বিচারক

0
244

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় রায়ে ২০ আসামীর মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনের জাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের দুই বছর তিন মাস পর এ মামলার রায় ঘোষণা হল।

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য ২০ জন ছাত্রকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। শিবির সন্দেহে গুজব ছড়িয়ে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), মুজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) । এরা সবাই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে এজহারের বাইরে যারা রয়েছেন মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

বুয়েট ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে, মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই ১৭তম ব্যাচ), আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ,  ১৬তম ব্যাচ), অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ)। এদের মধ্যে অমিত ও মুন্নার নাম হত্যা মামলা এজাহারে উল্লেখ ছিল না। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড হবে তাদের।

আবরার হত্যাকাণ্ডের এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন তিন জন। তারা হলেন, এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) এবং মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)।

আদালতে রায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেছেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসির দণ্ডের জন্য তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস এর জের ধরে পরদিন ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী।

তারা আবরারের ১০১১ নম্বর রুমে গিয়ে রাতে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তার ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ফোনসহ ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে আসে। এরপর ওই কক্ষে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত। মোট আসামির মধ্যে ২২ জনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে। পলাতক রয়েছে তিনজন। তারা সবাই বুয়েট ছাত্রলীগ কর্মী।


Warning: A non-numeric value encountered in /home/protidinerkhobor/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 353

LEAVE A REPLY