ক্যামেরুনে সন্ত্রাসী ঘটনায় ১৪ শিশুসহ নিহত ২২: ইউএন

0
175
ফাইল ছবি

রবিবার ক্যামেরুনের অ্যাংলোফোন অঞ্চলে একটি গণহত্যার ঘটনায় ২২ জন গ্রামবাসী মারা গেছে, যার মধ্যে ১৪ শিশু রয়েছে। জাতিসংঘ রবিবার জানিয়েছে, একটি বিরোধী দল সেনাবাহিনীকে এই হত্যাকান্ডের জন্যে দায়ী বলে দাবি করেছে। খবর এএফপি’র।

স্থানীয় মানবিক সমন্বয় সংস্থা (ওসিএইচএ)-এর এক কর্মকর্তাজেমস নুনান এএফপি’কে বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় টুম্ব গ্রামে শুক্রবার সশস্ত্র ব্যক্তিরা এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটিয়েছে।

নুনান আরো জানান, এক অন্তসত্ত¡া নারী ও ১৪ শিশুসহ অন্তত ২২ জন বেসামরিক নাগরিক এতে প্রাণ হারিয়েছে। নিহত ৯ শিশুর বয়স ৫ বছরের কম। ওসিএইচএ-এর উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রধান নুনান আরো জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে ১১ টি মেয়ে, যারা পশ্চিম আফ্রিকার অধিবাসী।

দেশটির ইংরেজী ভাষাভাষি সংখ্যালঘু বড় জনগোষ্ঠী গত তিন বছর যাবত কেন্দ্রিয় সরকারের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
‘দি মুভমেন্ট ফর দ্য রিবার্থ অব ক্যামেরুন’-এর প্রধান এক বিবৃতিতে বলেন,‘ এটি একটি স্বৈরশাসন এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূলত এ ধরনের অপরাধের জন্য দায়ী।’

বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান আইনজীবী আগবর মবালা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে’- এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন।

এক সেনা কর্মকর্তা রোববার সকালে এএফপি’র কাছে এ ঘটনার জন্যে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রায় তিন বছর ধরে ইংরেজী ভাষাভাষি অ্যাংলোফোন জনগোষ্ঠী, ফরাসি ভাষি ক্যামেরুন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এ আন্দোলনে এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে ও প্রায় ৭ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।

গত ৯ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার এই সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নিরাপত্তাবাহিনী একে অপরের প্রতি দোষারোপ করছে। সশস্ত্র বিচ্ছিন্নবাদীরা জনগণকে ভোটদানে বাধাপ্রদান ও প্রতিশোধমূলক হুমকি দিয়েছে। এদিকে সেখানে ব্যাপক সেনা উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।

LEAVE A REPLY