একই সূত্রে গাঁথাঃ ‘দি মিস্টিক নেটিভিটি ‘ও ‘বড়দিন’

0
61
কি ফুল তুলবো আমি
বলে দাও প্রিয়া তুমি,
নিরালে বসিয়া গাঁথিবো
মালা, আমি আর তুমি।
ফুল পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। ফুল মানুষকে আনন্দের পাশাপাশি ত্যাগের শিক্ষা দেয়। গন্ধ এবং সৌন্দর্যের জন্য আমরা ফুল ভালোবাসি।
ক্রিসেন্থিমাম বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুল। গোলাপের পরেই এর অবস্থান। আদি জন্মস্থান জাপান ও চীন। ক্রিসেন্থিমাম শব্দটি গ্রিক শব্দ ক্রাইসোস অর্থ সোনার আর অ্যান্থমন অর্থ ফুল থেকে এসেছে। ক্রিসমাসের সময় ফোটে বলে এফুলের নাম ক্রিসেন্থিমাম।
জাপানের স্থানীয় ভাষায় এফুলের নাম ‘কিকু’ আর বাংলাদেশে ‘চন্দ্রমুখী’। সংস্কৃতে ‘চন্দ্রমল্লিকা’ ফুলকে বলা হয় ‘সেবন্তি’ এবং ‘গুণদন্ডি’।
ফ্রান্সে চন্দ্রমল্লিকা শোকের প্রতীক হলেও জাপানে সুখের উৎসব চন্দ্রমল্লিকা। ফরাসি মানসিকতায় চন্দ্রমল্লিকা সমাধির ফুল, শোকের স্মারক পবিত্র পুষ্পাঞ্জলি। অন্যদিকে জাপানে চন্দ্রমল্লিকাকে জাতীয় ফুলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। জাপান সম্রাট তাঁর রাজকীয় সিলমোহরে এই ফুলের প্রতিকৃতি ব্যবহার করেন। শুধু তাই নয়, পাসপোর্টের প্রচ্ছদেও অঙ্কিত থাকে চন্দ্রমল্লিকার প্রতিকৃতি।
ডিসেম্বর মাসে একদিকে বিশ্বের প্রকৃতি সাজে তামাটে, সোনালী, হলুদ, বেগুনি, লাল, খয়েরি আর গ্রিন গডেস নামে সবুজ চন্দ্রমল্লিকার অপরূপ লাবণ্যে আর বর্ণিল সৌন্দর্য্যে। অপরদিকে বাড়ীগুলো সেজে ওঠে আলো, ক্রিসমাস ট্রি, তারা আর ঘন্টায়। বাতাসে ভেসে আসে প্যান কেক, পেস্ট্রি আর কুকিজের গন্ধ।
ইতিহাস বলে বেথেলহেম নগরের এক গো-শালায় কুমারী মা মেরির কোলে জন্মেছিলেন মানব ত্রাতা Jesus Christ. তাঁর জন্মগ্রহণের থিম নিয়ে রেনেসাঁর যুগে ১৫০০ সালে ফ্লোরেন্সের মেডিচি শাসকবর্গের বিশেষ প্রিয় অনুরাগসিক্ত অনুগ্রহধন্য শিল্পী সান্দ্রো বতিচেল্লি সৃষ্টি করলেন “দি মিস্টিক নেটিভিটি” নামে এক অগতানুগতিক শিল্পকর্ম।
শিল্পকর্মটিতে দেখা যায়, গোয়াল ঘর, গরু, মাতা মেরী ও শিশু যীশুকে। বামদিক থেকে একজন দেবদূতসহ দর্শনার্থীরা এগিয়ে আসছে। তাঁদের মাথা ও চুলে শোভা পাচ্ছে শান্তির প্রতীক জলপাই গাছের শাখা। ডানদিকে আরেক দেবদূত তিন মেষপালককে গোয়ালঘরের দিকে নিয়ে আসছে। প্যানেলের উপরের দিকে আকাশের বুকে অপার্থিব এক চ্যাপ্টা হলুদাভ স্থান থেকে দেবদূতগণ মুকুট ও জলপাইশাখা দোলাচ্ছে। একেবারে নিচে, গোয়ালঘরের সামনে, কয়েকজন মানুষ দেবদূতদের আলিঙ্গন করছে, আর পাহাড়ের আড়াল থেকে কয়েকটা শয়তান ব্যঙ্গভরা মুখ নিয়ে তাদের দিকে মিটমিট করে তাকাচ্ছে। সমস্ত চিত্রকর্মটির মধ্যে যেন মিশে আছে এক মরমী কাব্যময়তা।
মানব মনে ঈশ্বরপ্রীতি, পারস্পরিক সৌভ্রাতৃত্ববোধ ও ভালবাসা জাগাতে এবং বিশ্ব থেকে হিংসা, ভেদাভেদ দূরীভূত করে মানবসভ্যতাকে সমৃদ্ধ করতেই যেন তাঁর এধরাধামে আগমন। বাইবেলে যীশুর জন্মের কোন দিন ক্ষণ না থাকলেও ২৫ ডিসেম্বর তার জন্মদিন পালন করা হয়। তবে এদিনকে কবে “বড়দিন” হিসেবে উদযাপন করা হয় তা নিয়ে রয়েছে মতবিরোধ। জানা যায়, ৩৩৬ খ্রীস্টাব্দে রোমের প্রথম খ্রীস্টান সম্রাট কনস্টান্টাইনের আমলে ২৫ ডিসেম্বর প্রথম “বড়দিন” উদযাপিত হয়েছিল। এর কয়েকবছর পর, পোপ জুলিয়াস আনুষ্ঠানিক ভাবে এই দিনকে “বড়দিন” ঘোষণা করেন।
শুভ “বড়দিন”।
সবাইকে মর্যাদা, আভিজাত্য আর রাজকীয় সম্মানের প্রতীক “বেগুনী ক্রিসেন্থিমাম” ফুলের শুভেচ্ছা।
লেখকঃ রেশমা আখতার (ডলি)

Warning: A non-numeric value encountered in /home/protidinerkhobor/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 353

LEAVE A REPLY